বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › নোয়াখালীর মেঘনা–বঙ্গোপসাগরে জেগে উঠছে ৩০ নতুন চর, যুক্ত হচ্ছে কয়েক হাজার একর ভূমি

নোয়াখালীর মেঘনা–বঙ্গোপসাগরে জেগে উঠছে ৩০ নতুন চর, যুক্ত হচ্ছে কয়েক হাজার একর ভূমি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নোয়াখালীর মেঘনা–বঙ্গোপসাগরে জেগে উঠছে ৩০ নতুন চর, যুক্ত হচ্ছে কয়েক হাজার একর ভূমি

নোয়াখালীর মেঘনা মোহনা ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জেগে উঠেছে অন্তত ৩০টি নতুন চর। এর ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় কয়েক হাজার একর নতুন ভূমি যুক্ত হতে চলেছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের ১ লাখ ৬৪ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নথিভুক্ত হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু চরে ধান চাষের পাশাপাশি গরু, মহিষ ও ভেড়ার চারণভূমিও গড়ে উঠেছে। গবেষকদের মতে, এসব নতুন চর ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


বঙ্গোপসাগরে প্রায় তিন হাজার বছর আগে জেগে ওঠা সন্দ্বীপ বহু বছরের পলিমাটি ও ভূমিক্ষয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি দ্বীপ। ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩৬ বছরে সন্দ্বীপের পাশেই জেগে ওঠে জাহাজ্জার চর (স্বর্ণদ্বীপ) ও ভাসানচর। পরবর্তীতে ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তর করা হয়। মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র স্পারসোর গবেষণা চিত্রে দেখা গেছে, প্রায় চার দশক ধরে সন্দ্বীপ, স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচর ধীরে ধীরে একীভূত হচ্ছে।


নোয়াখালীর হাতিয়া ও মেঘনা-বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি নতুন চর জাগছে। চর ঘাসিয়া ও ঢালার চরসহ চারটি নতুন চরে ইতোমধ্যে জনবসতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু বেলাভূমি পশুর চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। হাতিয়া দ্বীপের আশপাশে এখন দৃশ্যমান আরও প্রায় ৩০টি নতুন চর।


পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর বঙ্গোপসাগরে প্রায় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন টন পলি জমা হয়। এসব চরে বাদাম, সয়াবিন এমনকি ধানও ভালো ফলন দিচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।


নতুন চরগুলো পরিকল্পিতভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগও রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নোয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি মোল্লা হাবিবুর রাছুল মামুন বলেন, পরিকল্পিত টুরিস্ট স্পট গড়ে তুললে কক্সবাজারের পর এটি আরেকটি বড় পর্যটন সম্ভাবনা হতে পারে।


জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে ৩০ শতাংশ কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, এতে প্রায় দুই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘনার দক্ষিণ-পূর্বে জেগে ওঠা এসব নতুন চর ভবিষ্যতে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের সম্ভাব্য এলাকা হতে পারে।


তবে নতুন চর জেগে ওঠার ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের প্রজনন ও চলাচল যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে মাছের মাইগ্রেটরি রুট সচল রাখতে ড্রেজিংয়ের কথাও বলা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এসব নতুন চর পুরোপুরি বসবাস উপযোগী হতে অন্তত আরও ৪০ বছর সময় লাগতে পারে।