বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › টঙ্গীতে বাসচালকের বিরুদ্ধে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ, আটক ২

টঙ্গীতে বাসচালকের বিরুদ্ধে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ, আটক ২

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
টঙ্গীতে বাসচালকের বিরুদ্ধে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ, আটক ২

গাজীপুরের টঙ্গীতে যাত্রীবাহী ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাসচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় আরেক যাত্রীকে মারধরের ঘটনায় পশ্চিম টঙ্গী থানায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ বাসচালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে।


শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে পশ্চিম টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান জানান, ঘটনার দিনই অভিযুক্ত চালক ও তার সহকারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি উত্তরা বিএনএস এলাকা থেকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেটের উদ্দেশ্যে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নাঈম ইসলামের স্ত্রী। তিনি বাসটির চালকের পাশের সংরক্ষিত নারী আসনে বসেছিলেন।


অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগী নারী নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য পরিচয় দেওয়ার পর চালক তার প্রতি উসকানিমূলক ও অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাসটি সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পৌঁছালে মো. নাঈম ইসলাম মোবাইলে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চালক তাকে বাসের জানালার সঙ্গে ধাক্কা দেন এবং তার মোবাইল ফোন ফেলে দেন।


এ সময় ভুক্তভোগী নারী বাসটি থামানোর অনুরোধ করলে চালক তা অস্বীকার করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চিৎকার শুরু করলে চালক বাসের ভেতরেই তাকে ধর্ষণের হুমকি দেন।


বাসে থাকা নূরনবী নামের এক যাত্রী এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে চালক, তার সহকারী ও অন্য যাত্রীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে হোসেন মার্কেট এলাকায় বাসটি থামলে যাত্রীদের সহায়তায় ওই নারীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়।


তবে বাস থেকে সবাই নেমে যাওয়ার পর নূরনবীকে একা পেয়ে চালক, তার সহকারীসহ তিনজন লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।


পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি আটক করা হয়। চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেলেও আরেকজন চালককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ মূল অভিযুক্তদেরও আটক করে।


এ ঘটনায় ধর্ষণের হুমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পশ্চিম টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেন মো. নাঈম ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাস মালিক সমিতির ১৫–২০ জন সদস্য থানায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেন।


এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত চালক চার দিন আগে উত্তরা পূর্ব থানার একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।