নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে দেশে প্রথমবার চালু হচ্ছে ‘মুন অ্যালার্ট’, উদ্বোধন করল সিআইডি
নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন (মুন অ্যালার্ট)’ চালু করা হচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে নিখোঁজ শিশু-সংক্রান্ত একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯–এরও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে মুন অ্যালার্ট ও হেল্পলাইনের উদ্বোধন করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।
সিআইডি জানায়, কোনো শিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হওয়ার যুক্তিসংগত আশঙ্কা দেখা দিলে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে মুন অ্যালার্ট জারি করা হবে। এই সতর্কবার্তা অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ও অফলাইন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল এসএমএস বা সেল ব্রডকাস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।
নিখোঁজ শিশু-সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, মিসিং চিলড্রেন সেল ০১৩২০০১৭০৬০ অথবা টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯–এ জানানো যাবে। তথ্য যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সতর্কবার্তা জারি বা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেল।
সিআইডি আরও জানায়, শিশু পাচার বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের আশঙ্কা দেখা দিলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘ইয়েলো নোটিশ’ জারির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিআইডি প্রধান বলেন, দেশে নিয়মিতভাবে অনেক শিশু নিখোঁজ হচ্ছে এবং তাদের একটি বড় অংশ মানবপাচারের শিকার হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে অনেক শিশুকে যৌন নির্যাতন, অঙ্গহানি ও বিভিন্ন অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনাও ঘটছে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং কখনো কখনো নিকটাত্মীয়রাও এ অপরাধে জড়িত থাকে। অভিভাবকরা সর্বস্ব দিয়েও অনেক সময় সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেন না। এসব হৃদয়বিদারক ঘটনা রোধে পুলিশ, গণমাধ্যম ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৬ সালে প্রথম ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ চালু হয়, যা বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্যকর রয়েছে। ২০২৪ সালে সিলেটে পাঁচ বছর বয়সী শিশু মুনতাহা আক্তারের নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো বাংলাদেশে একটি দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তোলে। মুন অ্যালার্ট চালুর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে একটি রাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠবে বলে আশা করছে সিআইডি।