২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
আগামী ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতে দুই পর্বে আয়োজনের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্ব ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন নিয়ে সাদপন্থি ও জুবায়েরপন্থি মুরব্বিদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ প্রস্তাব দিয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে ইজতেমার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার।
সাদপন্থিদের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, জানুয়ারিতে জুবায়েরপন্থিদের দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে রমজানের আগে এক পর্বে ইজতেমা করতে চান তারা। এ ছাড়া নভেম্বরের শেষ দিকে ইজতেমা আয়োজনের আরেকটি প্রস্তাবও রয়েছে।
অন্যদিকে জুবায়েরপন্থিদের পক্ষ থেকে সাদপন্থিদের অন্য কোনো স্থানে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সাদপন্থিরা এতে সম্মত নন।
মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তার দেশে আসার বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ও ভিসা ক্লিয়ারেন্সের ওপর নির্ভর করছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধের চিত্রও ভালো এবং ছিনতাইয়ের প্রবণতা কমেছে।
পুলিশের ভেতরে যারা সরকারকে অসহযোগিতা করছেন, তাদের শনাক্ত করতে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নজরদারি চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নেবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবছর টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।