শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাবিশেষায়িত ব্যাংকের বাড়তি খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ, নির্ধারিত খাতের বাইরে ঋণ না দিতে নির্দেশ

বিশেষায়িত ব্যাংকের বাড়তি খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ, নির্ধারিত খাতের বাইরে ঋণ না দিতে নির্দেশ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বিশেষায়িত ব্যাংকের বাড়তি খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ, নির্ধারিত খাতের বাইরে ঋণ না দিতে নির্দেশ

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত কার্যপরিধির বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক ও বড় খাতে ঋণ বিতরণের ফলে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ লক্ষ্য ও দায়িত্বের মধ্যেই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সভায় আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


সভায় আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ, মূলধন পরিস্থিতি, কৃষি ও গ্রামীণ ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণের পরিমাণ, খেলাপি ঋণ থেকে নগদ আদায় এবং অবলোপন করা ঋণ আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কিছু বিশেষায়িত ব্যাংক তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক ঋণ বিতরণ করছে। এসব ঋণের বড় একটি অংশ খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় সামগ্রিক খেলাপি ঋণের চাপ বেড়েছে। তিনি এ ধরনের ঋণ বিতরণ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।


সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় একই বছরের সেপ্টেম্বরে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণে সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে রাকাবের ক্ষেত্রে আমানত সংগ্রহের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।


ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথক আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে গঠিত। তাই যেসব খাত তাদের গঠনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেসব খাতে ঋণ বিতরণ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তিনি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, এ খাতের ঋণগ্রহীতারা সাধারণত নিয়মিত ঋণ পরিশোধে আগ্রহী থাকেন, ফলে খেলাপির হার তুলনামূলকভাবে কম।


সভায় আরও বলা হয়, সিএমএসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিলে একদিকে খেলাপি ঋণ কমবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে অবলোপন করা ঋণ আদায়ের হার সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করা হয়। এ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণ আদায়ের জন্য পৃথক লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনাকে নিয়মিত তদারকির আহ্বান জানানো হয়।