রবিবার , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রবিবার , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাগৃহঋণের সীমা দ্বিগুণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক, আবাসন খাতে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা

গৃহঋণের সীমা দ্বিগুণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক, আবাসন খাতে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
গৃহঋণের সীমা দ্বিগুণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক, আবাসন খাতে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা

নতুন বছরের শুরুতেই আবাসন খাতে বিনিয়োগবান্ধব এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজধানীর ফ্ল্যাটের মূল্য ও নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গৃহঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন ফ্ল্যাট কেনা বা বাড়ি নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো, যেখানে আগে এ সীমা ছিল ২ কোটি টাকা।


৬ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আবাসন ঋণের নতুন এই সীমা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের কম, শুধু তারাই বাড়তি সীমায় ঋণ দিতে পারবে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে থাকা ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দিতে পারবে। আর যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে, তারা সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারবে।


বর্তমানে ব্যাংক খাতে ৬টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এসব ব্যাংক হলো— সিটিজেন্স ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব ব্যাংক ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারবে। এ ছাড়া ৫ থেকে ১০ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ১১টি ব্যাংক সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। অন্য ব্যাংকগুলো আগের মতোই ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একক গ্রাহককে কত টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দেওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার অনুযায়ী। অর্থাৎ, খেলাপি ঋণ যত কম, ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা তত বেশি। তবে ঋণ ও গ্রাহকের নিজস্ব পুঁজির অনুপাত আগের মতোই ৭০:৩০ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ফ্ল্যাটের দামের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ দেবে, বাকি ৩০ শতাংশ গ্রাহককে নিজস্বভাবে বহন করতে হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ফ্ল্যাটের মূল্য যদি ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা হয়, তবে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে থাকা ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া সম্ভব হবে।


আবাসন ঋণের সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এক বিবৃতিতে জানায়, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আবাসন খাতকে গতিশীল করতে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কারের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, গৃহঋণের সীমা বাড়ানোর ফলে আবাসন খাতে চাহিদা ও বিনিয়োগ বাড়বে। একই সঙ্গে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত রড, সিমেন্ট, বালু, রং, কাঠ, আসবাবসহ অন্তত ৫০০টি শিল্প খাত উপকৃত হবে। তাঁরা আরও বলেন, ঋণের পরিশোধকাল দীর্ঘমেয়াদি করা গেলে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের জন্য গৃহঋণ আরও সহজলভ্য হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।