নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন তৌহিদ হোসেন
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও বৈশ্বিক সহযোগিতামূলক উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলোচনা, আস্থা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা) আয়োজিত ‘নেক্সট জেনারেশন প্রফেশন: কনভার্জিং এথিক্যাল এআই অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল প্রতিবেশী এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে। বাংলাদেশ আলোচনা, আস্থা গঠন এবং অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে সহযোগিতামূলক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয়।
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতামূলক সমাধান এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং টেকসই রিপোর্টিংয়ের সমন্বয় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বৈশ্বিক পেশাজগতকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থার গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক সংহতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পেশাজীবীদের শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই নয়, বরং নৈতিক দৃঢ়তা ও দায়বদ্ধতাও থাকতে হবে। সাফা সম্মেলনের মতো আয়োজন জ্ঞান বিনিময়, সেরা অভ্যাস ভাগাভাগি এবং অর্থবহ সহযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেন, নৈতিক এআই ও টেকসই রিপোর্টিংয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক অ্যাকাউন্টিং পেশা একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যা ব্যবসায়িক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এবং জনআস্থা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।
এই সম্মেলনে আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে তিনটি টেকনিক্যাল অধিবেশন ও একটি সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া।
এ এইচ এম আহসান বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি একদিকে সুযোগ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে নৈতিক সুরক্ষা না থাকলে অ্যালগরিদমিক যোগসাজশ ও অস্বচ্ছতার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
এবারই প্রথমবারের মতো ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (আইএফএসি)-এর সভাপতি জ্যঁ বুকো আইসিএবি’র আমন্ত্রণে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশ নেন। তিনি বলেন, সততা ও জনস্বার্থকে কেন্দ্র করে এআই পরিচালিত হলে হিসাববিদরা অনিশ্চয়তাকে সুযোগে রূপান্তর করতে পারবেন এবং একটি আরও টেকসই ও সহনশীল অর্থনীতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মোবিন স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবি’র সাবেক সভাপতি ও রহমান রহমান হক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস-এর সিনিয়র পার্টনার আদীব হোসেন খান। তিনি বলেন, টেকসই প্রতিবেদন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ইতোমধ্যেই আর্থিক মূল্য সৃষ্টি ও প্রকাশের কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে।
তিনি পেশাজীবী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও মান-নির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে এআই-নির্ভর টেকসই রিপোর্টিং স্বচ্ছ, ব্যাখ্যাযোগ্য এবং বৈশ্বিক মান ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।