ডিগ্রি অর্জনই শেষ নয়, সমাজ বদলের দায়িত্ব তরুণদের—সমাবর্তনে ফরিদা আখতার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়েই তরুণদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেশের একটি বড় অংশ এখনো উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকায় শিক্ষিত তরুণদের ওপর সমাজ পরিবর্তনের দায় আরও বেড়েছে।
আজ সকালে ঢাকার সেনানিবাসস্থ সেনাপ্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের মনোনীত সমাবর্তন সভাপতি হিসেবে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দেশকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। তবে শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; টেকসই পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন অন্যান্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন। এখানে তরুণদের শুধু সরকার গঠনের বিষয়েই নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উঠে আসা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার গণভোটের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার ব্যর্থ হলে পুরনো ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে—এ আশঙ্কা থেকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে তিনি বলেন, মাছ, ডিম, দুধ ও মাংস মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস হলেও এখনো সবার জন্য তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ঘাটতি পূরণের নামে মাংস আমদানি করলে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দেশীয় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ দূষণ, নদী-নালা ও খাল-বিল ভরাটের কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অতিরিক্ত ও অবৈধ আহরণের ফলে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের তুলনায় সমুদ্রে মাছের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। অক্সিজেন-স্বল্প এলাকা ও প্লাস্টিক দূষণ সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। পর্যটনের সময় সমুদ্রে প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলা মারাত্মক অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তরুণদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ধূমপান হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকসহ নানা অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ। আইন প্রয়োগের অপেক্ষায় না থেকে আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই নিজেকে ও সমাজকে রক্ষা করতে হবে।
সমাবর্তন শেষে ফরিদা আখতার রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের পক্ষে বিভিন্ন অনুষদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করেন এবং সকল গ্রাজুয়েটকে অভিনন্দন জানান।