শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমজাতীয়আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী

আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) যথাযথ মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালন করছে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বাগবাড়িতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তার বাবা মনসুর রহমান ছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের একজন উচ্চপদস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং মা জাহানারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশব থেকেই শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বগুণের পরিচয় পাওয়া যায় তার মধ্যে।

১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। সামরিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি দক্ষতা ও সাহসিকতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়, যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার ঐতিহাসিক ঘোষণা—‘আমি মেজর জিয়া বলছি’—মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং সাহসিকতার জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে চৌকস ‘জেড ফোর্স’ গঠন ও নেতৃত্ব দেন।

স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং এক অস্থির সময়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হয়। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি শহীদ হন। তার শাহাদাতে গোটা দেশ শোকাহত হয়ে পড়ে। শেরেবাংলানগরে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে শহীদ জিয়াউর রহমানকে স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক। তিনি শহীদ জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় শেরেবাংলানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।