রংপুরে নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র চিত্র, ডিম-মুরগির দাম বাড়লেও কমেছে ডালের মূল্য
রংপুরের নিত্যপণ্যের বাজারে গত এক সপ্তাহে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে। খুচরা বাজারে ডিম ও মুরগির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, তবে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া অধিকাংশ সবজি, মাছ, মাংস ও চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রংপুর নগরীর পৌরবাজার, ধাপ বাজার, মুলাটল, কামারকাছনা বাজার, সিও বাজার, শাপলা ও শালবন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সিও বাজারের মুরগি বিক্রেতা জয়নাল মিয়া জানান, ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। পাকিস্তানি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, আর পাকিস্তানি হাইব্রিড মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায়।
ধাপ বাজারের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। পৌর বাজারের ডিম বিক্রেতা নওশাদ আলী জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে। বর্তমানে পোলট্রি ডিম প্রতিটি ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ থেকে ২ টাকা বেশি।
অন্যদিকে মাংসের বাজারে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও কিছু সবজির দামে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে। টমেটো ৫০–৬০ টাকা, গাজর ৪০–৫০ টাকা, মুলা ৩৫–৪০ টাকা, ফুলকপি ৩৫–৪০ টাকা এবং বাঁধাকপির পিস ২৫–৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। চিকন বেগুনের দাম বেড়ে ৪০–৫০ টাকায় দাঁড়ালেও গোল বেগুন আগের মতোই ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম কমে ৬০–৭০ টাকা কেজি হয়েছে।
ডালের বাজারে স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের। মাঝারি মসুর ডাল কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। মুগডাল ১৫০–১৬০ টাকা, বুটের ডাল ১১০–১২০ টাকা এবং ছোলাবুট ৯০–১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনি ও ছোলাবুটের দামেও কিছুটা কমতি লক্ষ্য করা গেছে।
চালের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্বর্ণা, বিআর-২৮, বিআর-২৯, মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্থিতিশীলতা রয়েছে। রুই মাছ ৩০০–৩৮০ টাকা, কাতল ৩০০–৫০০ টাকা, পাঙাশ ১৫০–২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০–২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও ডিম ও মুরগির দাম বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।