শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমজাতীয়সিন্ডিকেটের দখলে গণপরিবহন, জিম্মি সাধারণ মানুষ

সিন্ডিকেটের দখলে গণপরিবহন, জিম্মি সাধারণ মানুষ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
সিন্ডিকেটের দখলে গণপরিবহন, জিম্মি সাধারণ মানুষ

বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী কারা—এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই একবাক্যে বলেন, সিন্ডিকেট। দেশের গণপরিবহন খাত কার্যত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা বাসে উঠতে গিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অবহেলা, অপমান ও অতিরিক্ত ভাড়ার মুখে পড়ছেন।


বাসস্ট্যান্ড বা অটোরিকশা স্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো, অনুনয়-বিনয়ের পরও ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকানো যেন নিত্যদিনের চিত্র। মিটার থাকা সত্ত্বেও সিএনজিতে মিটার ব্যবহার কার্যত বন্ধ। অনেক যাত্রী বলেন, ‘মিটারের কথা বলতেও ভয় লাগে।’ কারণ পুরো ব্যবস্থাই চলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।


১৫ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের অভিজ্ঞতা এই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। অসুস্থ স্বামীকে দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তিনি অ্যাম্বুলেন্স খুঁজলেও কেউ যেতে রাজি হয়নি। ছোট ট্রিপে ‘লোকসান’ হবে—এই যুক্তিতে চালকেরা পুরো দিনের ভাড়া দাবি করেন। বাধ্য হয়ে ঢাকা মেডিকেল থেকে পান্থপথ যেতে তাকে গুনতে হয় ৩ হাজার টাকা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা তো জিম্মি, আমাদের দেখার কেউ নেই।’


অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্স—উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে সংগঠিত সিন্ডিকেট। ঢাকায় সিএনজি চালাতে হলে নির্দিষ্ট টোকেন বাধ্যতামূলক, যার মাসিক ভাড়া ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডে দাঁড়াতেও মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এসব চাঁদা না দিলে গাড়ি চলতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ চালকদের।


গণপরিবহন খাতের সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের হাত বদলালেও নিয়ম ও নৈরাজ্য একই থেকে গেছে। বাসভাড়া নির্ধারণ, রুট নিয়ন্ত্রণ কিংবা ধর্মঘটের নামে জনগণকে জিম্মি করাই যেন এই সিন্ডিকেটের কৌশল।


টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে এক হাজার কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় হয়। এই চাঁদার ভাগ যায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার হাতে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বড় বাস কোম্পানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনার সঙ্গে রাজনীতিবিদরা জড়িত।


বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার কার্যকর প্রয়োগ জরুরি। তা না হলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ এভাবেই জিম্মি হয়ে থাকবে।