বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও জুলাই সনদে ইতালির পূর্ণ সমর্থন
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম এবং জুলাই সনদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইতালি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ অবস্থান তুলে ধরেন ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি (প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী) মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো। বিষয়টি বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অভিবাসন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম এবং জুলাই সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। জুলাই সনদের প্রশংসা করে ইতালির উপমন্ত্রী বলেন, দলিলটিতে প্রস্তাবিত সার্বিক সংস্কার উদ্যোগকে ইতালি সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে।
তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিও ইতালির সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পেরেগো বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমানে বৈশ্বিক গুরুত্বের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী ইতালি, যাতে ভবিষ্যতে যৌথভাবে অগ্রসর হওয়া যায়।
ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় পথে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ইতালির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি চলতি বছরের মিলানো–কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিককে একটি সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক আয়োজন হিসেবে গড়ে তোলার নকশা প্রণয়নে সহায়তা করেছিলেন।
তিনি জাপান ও ইতালির মতো উন্নত দেশে দ্রুত জনসংখ্যা বার্ধক্যের প্রেক্ষাপটে আইনগত অভিবাসন সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ইউনূস।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহৎ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোটার উপস্থিতি শক্তিশালী হবে বলে তাঁর প্রত্যাশা, কারণ গত ১৬ বছরের শাসনামলে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘ভুয়া নির্বাচনে’ বহু তরুণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি।
এ ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা আরও জোরদারে ইতালির সমর্থন কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।