ব্রিকস নৌ-মহড়ায় ইরানের অংশগ্রহণ: তদন্তে দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি
ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়ায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার নির্দেশ অমান্য করেই ইরান এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় ৯ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত যৌথ নৌ-মহড়াটির নাম ছিল ‘উইল ফর পিস ২০২৬’। মহড়াটি ঘিরে দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রিটোরিয়া।
মহড়ার আয়োজন ও উদ্দেশ্য
দক্ষিণ আফ্রিকার নৌঘাঁটি সাইমনস টাউনের কাছাকাছি এলাকায় অনুষ্ঠিত এই মহড়ার নেতৃত্ব দেয় চীন। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে উদ্ধার অভিযান, সামুদ্রিক হামলা প্রতিরোধ এবং কারিগরি সহযোগিতাসংক্রান্ত অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ টাস্কফোর্সের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ন্দওয়াখুলু থমাস থামাহা বলেন, এই মহড়া শুধু সামরিক অনুশীলন নয়, বরং ব্রিকস দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতীক। তিনি বলেন, “জটিল সামুদ্রিক পরিবেশে এ ধরনের সহযোগিতা বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য।”
কারা অংশ নেয়
মহড়ায় চীন ও ইরান ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অংশ নেয় করভেট নিয়ে, আর আয়োজক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা একটি ফ্রিগেট পাঠায়। ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া ও ব্রাজিল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিল।
তবে ব্রিকসের বর্তমান চেয়ারম্যান ভারত এই মহড়া থেকে নিজেকে দূরে রাখে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এটি কোনো নিয়মিত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্রিকস কার্যক্রম নয় এবং সব সদস্য এতে অংশ নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মূল কারণ ছিল ইরানের অংশগ্রহণ। ওয়াশিংটনের মতে, ইরানের সঙ্গে এ ধরনের সামরিক মহড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলে যুক্তরাষ্ট্র।
এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট রামাফোসার নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ তদন্তে কতটা সত্যতা পাওয়া যায়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।