অস্ত্রের মজুতের তথ্য ফাঁস, পলিগ্রাফ পরীক্ষায় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে সংবেদনশীল গোপন তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে দেশটির সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা পলিগ্রাফ বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানায়, তদন্তের আওতায় সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জয়েন্ট স্টাফের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ ও পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা হয়েছে। অন্যান্য মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রায় ৫০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে এ পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতের পরিস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
ওয়াশিংটনের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ হলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত তথ্য পৌঁছে যেতে পারে।
তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করতেই তদন্তটি শুরু হয়েছে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, তদন্ত শুধু সামরিক বাহিনীর অপেক্ষাকৃত নিচের সারির সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। প্রেসিডেন্টকে সামরিক পরামর্শ দেওয়া জয়েন্ট স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এর আওতায় রয়েছেন।
এরই মধ্যে গোপন সামরিক তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পেন্টাগন। সম্প্রতি সামরিক পরিকল্পনা-সংক্রান্ত কয়েক দশকের পুরোনো কিছু গোপন নথিতে প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়েছে। এসব নথিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সামরিক ইউনিট, অস্ত্রব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সম্পদের অবস্থান ও সক্ষমতা-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশটির সামরিক অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ও টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসব অস্ত্রের মজুত ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে, তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সামরিক তথ্য ফাঁস ঠেকাতে পলিগ্রাফ পরীক্ষা ছাড়াও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সমন জারি এবং গোপন তথ্যের উৎস শনাক্তে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত পলিগ্রাফ পরীক্ষায় কোনো কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়েছেন কি না কিংবা তদন্তে তথ্য ফাঁসের জন্য কাউকে শনাক্ত করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করা হয়নি।