শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বচীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় জোটে উদ্বেগ, ভিন্নমত নাউরুর

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় জোটে উদ্বেগ, ভিন্নমত নাউরুর

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় জোটে উদ্বেগ, ভিন্নমত নাউরুর

চীনের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জোট। তবে এ বিষয়ে জোটের যৌথ অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে নাউরু।


বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে এ অবস্থান উঠে আসে। সম্মেলনের আয়োজক দেশ পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র জানান, গত জুলাইয়ে চীনের ছোড়া একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। তবে উৎক্ষেপণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি।


২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এটিই চীনের প্রথম জানা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বলে জানান তিনি।


হুইপস জুনিয়র বলেন, সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা আহ্বান জানিয়েছেন, যেসব দেশ আইসিবিএম পরীক্ষা চালায়, তারা যেন আন্তর্জাতিক রীতি মেনে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে এ বিষয়ে স্বচ্ছভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেয়। তবে এ অবস্থানের সঙ্গে নাউরু দ্বিমত পোষণ করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।


চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবস্থান পরিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে নাউরুর। ২০২৪ সালে দেশটি তাইওয়ানের পরিবর্তে আবারও বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।


নাউরুর অবস্থানের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রতিরক্ষামূলক জাতীয় নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করে। দেশটি কখনো সামরিক সম্প্রসারণে জড়িত হয়নি বলেও দাবি করেছে বেইজিং।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও চিয়াকুন বলেন, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন।


অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব মতামত থাকা এবং কোনো কোনো দেশের ভিন্নমত পোষণ করা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, দৃঢ় অবস্থান প্রকাশের জন্য সর্বসম্মতির প্রয়োজন নেই; অধিকাংশ দেশের অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে।


১৮ সদস্যের এই জোটকে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছিল পালাউ। দেশটি তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রশান্ত মহাসাগরীয় তিন দেশের একটি।


এদিকে বেইজিং পালাউয়ের বিরুদ্ধে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করার অভিযোগ করেছে। অন্য দ্বীপরাষ্ট্রগুলোকে প্রভাবিত করার এ ধরনের প্রচেষ্টা ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ এবং তা সফল হবে না বলেও সতর্ক করেছে চীন।


সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণ নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়। বেইজিংয়ের দাবি, স্বশাসিত তাইওয়ান এ ধরনের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার যোগ্য নয়। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করলেও তাইপে বরাবরই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।


তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং শুক্রবার চীনের ‘নেকড়েযোদ্ধা’ কূটনীতির সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, সম্মেলনে চীনা কর্মকর্তারা গুপ্তচরবৃত্তিতেও জড়িত ছিলেন। তার মতে, এ ধরনের আচরণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পরিস্থিতিকে অস্বস্তিকর করে তোলে। তিনি জানান, তাইওয়ান ও চীন—উভয় পক্ষই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল।