রবিবার , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রবিবার , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বযুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের একের পর এক দেশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের একের পর এক দেশ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের একের পর এক দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত সোনার মজুদ ইউরোপে ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে একাধিক দেশ। চলতি সপ্তাহে উত্তর আমেরিকা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ডিএনবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গুরুতর সংকট মোকাবিলায় নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের ৮৬ টন সোনা লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কোনো সংকট দেখা দিলে মূল্যবান এই সম্পদ যেন সহজে ও দ্রুত ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেই সোনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


নেদারল্যান্ডসের এই পদক্ষেপের পর দেশটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা করছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাণিজ্যযুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের মতো বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দেশই সংকটের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সোনার মজুদ নিজেদের দেশের কাছাকাছি বা তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।


চলতি বছরের শুরুতে ফ্রান্সও যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত সোনার একটি অংশ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। এর আগে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক ২০১৬ সাল পর্যন্ত কয়েক বছর ধরে বিদেশে থাকা ২১৬ টনের বেশি সোনা নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে আনে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে ১১১ টন এবং প্যারিস থেকে ১০৫ টন সোনা আনা হয়েছিল।


বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনার মজুদ স্থানান্তরের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গোল্ডম্যান স্যাকসের গবেষণা বিশ্লেষক লিনা থমাস ও ড্যান স্ট্রাইভেন বিবিসিকে বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও ইউরোপের কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের গচ্ছিত সোনার একটি অংশ নিউইয়র্কে সরিয়ে নিয়েছিল।


ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট জোসেফ কাভাতোনির মতে, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা ইউরোপীয় দেশগুলোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটিই একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়।


তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং সংকটের সময়ে দ্রুত সোনা কেনাবেচা বা লেনদেন করা যায়—এমন স্থানে মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করাও এসব সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন নিজেদের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, সোনার মজুদ বাড়ানো এবং সংকটকালে এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি সচেতন।


কাভাতোনি বলেন, সামনে বড় ধরনের বিপর্যয় আসছে—এমনটা মনে করার কারণ নেই। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সংরক্ষিত সম্পদ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা সংরক্ষণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা বাড়ার অন্যতম কারণ হলো, তারা রেকর্ড পরিমাণে সোনা কিনছে। তবে নিজেদের দেশে সোনা সংরক্ষণেরও বাড়তি ব্যয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক থমাস ও স্ট্রাইভেন।


তাদের মতে, নিজ দেশে সোনা মজুদের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিয়মিত অডিটের অবকাঠামো এবং বীমা সুরক্ষায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। তুলনামূলক ছোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য এসব অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হতে পারে।