শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বযুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি: তেহরানের মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি: তেহরানের মেয়র

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি: তেহরানের মেয়র
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় শুধু প্রতিরোধ গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়, একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরের গুরুতর সমস্যাগুলোও সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের রাজধানী তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি। তা না হলে ইরান ‘ভেতর থেকেই ভেঙে পড়তে পারে’ বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ইরানের প্রভাবশালী রক্ষণশীল রাজনীতিক জাকানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও চাপের মধ্যে ইরানের সামনে মূলত তিনটি পথ রয়েছে। প্রথমত, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে ছাড় দেওয়া; দ্বিতীয়ত, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন ও দুর্বলতাগুলো সমাধান না করেই প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া; এবং তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে দেওয়া এক বক্তব্যে জাকানি বলেন, ‘প্রতিরোধের অর্থ এই নয় যে আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো উপেক্ষা করব।’

তিনি বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও এগোতে হবে।

জাকানির এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ইরানকে যুদ্ধের ব্যয়, অর্থনৈতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা—সবই সামলাতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। এতে দেশটির তেল রফতানি, বৈদেশিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতও শুরু হয়েছে। ফলে তেহরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জাকানির বক্তব্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অবস্থান থেকে সরে আসার কথা বলেননি জাকানি। বরং তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, বাইরের চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোও দূর করতে হবে। তাঁর মতে, শুধু শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেই দীর্ঘমেয়াদে ইরান শক্তিশালী হতে পারবে না; রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোও সমান জরুরি।