আদানি চুক্তিতে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে পর্যালোচনা কমিটি
ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০-এর অধীনে সম্পাদিত চুক্তি পর্যালোচনা জাতীয় কমিটি। কমিটির তথ্যমতে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে বছরে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে।
গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটি জানায়, আদানির সঙ্গে করা এই চুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং এতে জড়িত সাত থেকে আটজন ব্যক্তি অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। কমিটির মতে, বাংলাদেশ সরকার চাইলে চুক্তিটি বাতিল করতে পারে এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগও রয়েছে।
কমিটি আদানির সঙ্গে করা চুক্তিকে দেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে ‘খারাপ’ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে তারা বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না; নির্বাচিত সরকারকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আদানির সঙ্গে করা চুক্তির নির্দেশনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকেই আসত। এছাড়া কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কয়েক মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন—এমন তথ্যও কমিটির হাতে রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নেতৃত্ব দেন হাই কোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। কমিটি গত ২০ জানুয়ারি বিশেষ আইনে করা চুক্তিগুলোর বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে পিডিবির লোকসান ছিল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ কিনতে সরকারের খরচ হয় ১২ টাকা ৩৫ পয়সা, অথচ বিক্রি করা হয় মাত্র ৬ টাকা ৬৩ পয়সায়।