শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে টেক্কা দেওয়ার আশা ভারতের

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে টেক্কা দেওয়ার আশা ভারতের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে টেক্কা দেওয়ার আশা ভারতের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপের পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের বড় একটি অংশ ইইউভুক্ত ২৭ দেশের বাজারে বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাবে।


চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপে ভারতীয় পোশাকপণ্যের ওপর বিদ্যমান প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার মতো পণ্যের ক্ষেত্রেও শুল্ক কমানো হবে অথবা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।


প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনার পর গত মঙ্গলবার এই বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ভারতের সংসদের অনুমোদন পেলে চুক্তিটি ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।


ভারতের সংবাদমাধ্যম জি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় একটি অংশ ভারতের দখলে চলে যেতে পারে বলে দিল্লি আশা করছে।


১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে বাংলাদেশ ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্যে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।


বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এরপর রয়েছে তুরস্ক, ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি ইইউভুক্ত দেশগুলোতে গেছে, যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৯৭১ কোটি ডলার।


ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পর ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, ভারত খুব দ্রুত ইউরোপে টেক্সটাইল রপ্তানি সাত বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হতো, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রপ্তানি করে। তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজার দখল করেছিল।’


জি নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইইউর বাজারে ভারতীয় পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং পণ্যের মানের কারণে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে।


সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন