বেলুচিস্তানে অভিযানে ৪১ সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত, ভারতের সম্পৃক্ততার দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বেলুচিস্তানে পরিচালিত পৃথক অভিযানে কমপক্ষে ৪১ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, নিহত যোদ্ধারা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিবেশী ভারত–সমর্থিত গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেলুচিস্তান প্রদেশে সংঘটিত এসব অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়। ঘটনাস্থল আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি হলেও সামরিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে ‘ভারত সমর্থিত যোদ্ধারা’ জড়িত ছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি পাকিস্তান।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানায়, প্রথম অভিযানে বেলুচিস্তানের হারনাই জেলার উপকণ্ঠে অন্তত ৩০ জন যোদ্ধা নিহত হয়। সেনা কর্মকর্তারা জানান, নিহতরা ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ নামের একটি গোষ্ঠীর সদস্য, যা পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) বোঝাতে ব্যবহার করে। এই গোষ্ঠীকে আফগানিস্তানের তালেবানের মিত্র হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের পাঞ্জগুর জেলায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’-এর ১১ জন ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, ডিসেম্বরে পাঞ্জগুরে সংঘটিত একটি ব্যাংক ডাকাতিতে ব্যবহৃত গোলাবারুদ দ্বিতীয় অভিযানে নিহত যোদ্ধাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এসব অভিযান চালানো হয় এবং এতে কোনো সেনাসদস্য নিহত হয়নি।
সেনাবাহিনী জানায়, অবশিষ্ট সশস্ত্র যোদ্ধাদের নির্মূল করতে উভয় জেলায় ‘স্যানিটাইজেশন অপারেশন’ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের অভিযোগের বিষয়ে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এই অভিযানকে রাষ্ট্রের ‘অটল সংকল্পের প্রতিফলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে পুরো জাতি সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানে সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। এসব হামলার জন্য প্রধানত নিষিদ্ধ বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ও টিটিপির মতো বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেলুচিস্তানের খারান জেলায় জিম্মি হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১২ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। সে ক্ষেত্রেও ভারতীয় সম্পৃক্ততার দাবি করেছিল সেনাবাহিনী।
সূত্র: আল-জাজিরা