শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমসারা দেশআজ থেকে ৯ মাসের জন্য সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ

আজ থেকে ৯ মাসের জন্য সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আজ থেকে ৯ মাসের জন্য সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে টানা ৯ মাসের জন্য পর্যটক ভ্রমণ আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার চলতি মৌসুমের পর্যটন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ফলে আজ থেকে সেন্ট মার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে না।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও এ বছর পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। সরকারি অনুমতি নিয়ে গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাস দ্বীপটিতে পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ ছিল।


পর্যটক জাহাজ মালিক সমিতির তথ্যমতে, এই দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার করে পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন এবং মোট পর্যটক সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ ১৭ হাজার।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজিব জানান, শনিবার শেষবারের মতো পর্যটকদের নিয়ে জাহাজগুলো সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত করেছে। রোববার থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। তবে সরকার পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দীর্ঘ সময় পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় দ্বীপের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পর্যটননির্ভর অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়লে দ্বীপবাসী বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে।


সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম আবদুর রহমান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগের অর্থও এখনো তুলতে পারেননি এবং অধিকাংশই এবার লাভের পরিবর্তে লোকসানে পড়েছেন। পর্যটন বন্ধ থাকলে আগামী কয়েক মাসে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।


দ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হাবিবুল্লাহ বলেন, দ্বীপের মানুষ এখন পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা আমরা বুঝি, তবে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ছাড়া ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।


সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, আগে দ্বীপের বাসিন্দারা মাছ ধরা ও কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর হয়ে পড়েছে। সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো গেলে স্থানীয়দের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো।


এর আগে পর্যটন মৌসুমে সেন্ট মার্টিনে কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর মধ্যে ছিল রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।


এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।


প্রশাসনের মতে, দীর্ঘ সময় পর্যটক না থাকলে প্রবালসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাস পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।