জামালপুরে ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, প্রশাসন প্রস্তুত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুরে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলা, আটটি পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৬২৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রকে “অধিক ঝুঁকিপূর্ণ” এবং ২১২টিকে “ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে জামালপুর সদর-৫ আসন প্রশাসনের নজরে রয়েছে। এই আসনের মোট ১৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, মোট ভোট কেন্দ্রের ৫৩.৬ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ, যার মধ্যে ১৯.৬ শতাংশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৪ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ।
ভোটাররা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য তুলনামূলক কম থাকার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। তাঁরা বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সংঘাতের আশঙ্কায় অনেক ভোটার ভোট দিতে গিয়ে আতঙ্কিত হন।”
জামালপুর পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, “অস্ত্রবাজি বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করার চিন্তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। কেউ এমন কিছু করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ব্যাটালিয়ন, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।
এবার জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ১২ হাজার ১৮৭।