নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ;গণমুখী, কল্যাণকামী ও গণতান্ত্রিক সরকার
মাসুদ আল হাসান, খুলনা : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গণমুখী, কল্যাণকামী ও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে দেখতে চান সাধারণ মানুষ।
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ভোটাধিকার সংকুচিত থাকা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনের শাসনের অভাবের প্রেক্ষাপটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রূপ নেয় গণ-অভ্যুত্থানে। এর ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের পতন ঘটে এবং দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের দেড় বছর পর দেশ এগোচ্ছে নতুন নির্বাচনের দিকে।
এবারের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে চার কোটি তরুণ ভোটার এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই বাস্তবতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান তিন রাজনৈতিক দল—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
বিএনপির ইশতেহারে প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্যের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষক কার্ড ও কৃষি বীমা, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, শিক্ষায় মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সংস্কার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। দলটি ২৬টি অগ্রাধিকার ও ৪১ দফা প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেছে, যার মধ্যে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, অতীতের হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার, ভোটের বয়স ১৬ বছর নির্ধারণ, এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রধান দলগুলোর ইশতেহার পর্যালোচনায় জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট—নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণমুখী, কল্যাণকামী ও দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হয়।##
মাসুদ