প্রশাসনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান গয়েশ্বরের, ‘খুশি করতে গিয়ে আইনের বাইরে নয়’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশাসনের উদ্দেশে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে; মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যকে খুশি করা প্রশাসনের কাজ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ১৭ বছর প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছেন, যা আর দেখতে চায় না দেশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেরানীগঞ্জের মির্জাপুরে নিজ বাসভবনে দক্ষিণ শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি মন্ত্রিত্ব পাওয়ার জন্য রাজনীতি করেননি এবং নির্বাচনে অংশ নেননি। “কেউ আমাকে সান্ত্বনা দিতে আসবেন না। তা হলে আমি মনে করব আমাকে অপমান করা হচ্ছে,”—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কথা বলাই তার লক্ষ্য। প্রশাসন যদি কোনো দলীয় নেতা বা কর্মীকে খুশি করতে আইনের বাইরে যায়, তাহলে তিনি সংসদে এর প্রতিবাদ করবেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক ব্যাজ বিতরণ করা হলেও প্রত্যাশিত ভোট পাওয়া যায়নি। নিজেদের পরিবার ও সমর্থকদের ভোট নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্রে ফলাফল হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পাস তো সবাই করে, কিন্তু পাশের মধ্যেও পার্থক্য থাকে।”
তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, দুর্বল ভেবে কাউকে আঘাত করা যাবে না; দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। অতীতে প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এমন সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না।
এছাড়া তিনি নির্দেশ দেন, থানার কমিটির অনুমতি ছাড়া কোনো নেতা-কর্মী যেন থানায় কোনো কাজে না যান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুসহ উপজেলা দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতারা।