শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমসারা দেশরংপুরে আলুর দামে ধস, কেজি বিক্রি ৫ টাকায়; কৃষকদের লোকসান হাজার কোটি

রংপুরে আলুর দামে ধস, কেজি বিক্রি ৫ টাকায়; কৃষকদের লোকসান হাজার কোটি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
রংপুরে আলুর দামে ধস, কেজি বিক্রি ৫ টাকায়; কৃষকদের লোকসান হাজার কোটি

রংপুর জেলায় আলুর বাজারে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে আলুর দাম কেজিপ্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ করা হলেও হিমাগারের খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের হাতে আসছে মাত্র পাঁচ টাকা। এতে চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৬৬ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টন। তবে বিপুল উৎপাদনের তুলনায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা খুবই সীমিত। জেলায় মাত্র ৪০টি হিমাগার রয়েছে, যার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় চার লাখ ৬০ হাজার টন। ফলে উৎপাদিত আলুর চার ভাগের এক ভাগেরও কম সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

রংপুর সদর, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় এ বছর আলুর ভালো ফলন হয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা চর এলাকায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৪০টি হিমাগারে বর্তমানে চার লাখ ৬১ হাজার ৭৪৭ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বাজারে বের করা হয়েছে মাত্র এক লাখ এক হাজার ৫৯৪ টন, যা মোট মজুদের চার ভাগের এক ভাগেরও কম।

বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু তোলার প্রবণতাও কম। অন্যদিকে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন মৌসুমের আলু চাষ শুরু হওয়ার কথা এবং প্রায় ৬০ দিনের মধ্যে সেই আলু বাজারে চলে আসবে। ফলে বর্তমানে মজুত বিপুল পরিমাণ আলু বিক্রি না হলে তা পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাষিদের হিসাব অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে আলু উৎপাদনে কেজিপ্রতি খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা। বস্তা, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়া যোগ করলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩০ টাকারও বেশি। অথচ বাজারে এখন আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি দরে। সব খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে থাকছে প্রায় পাঁচ টাকা।

এদিকে পুরো রংপুর বিভাগের আট জেলায় এবার প্রায় দুই লাখ ২৫ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবং মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯২ টন। কিন্তু বিভাগের ১১৬টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৯ হাজার ৬৯২ টন। সংরক্ষণ সংকট ও বাজারদরের পতনের কারণে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।