শুক্রবার , ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার , ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে চাপে দেশের আমদানি–রপ্তানি খাত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে চাপে দেশের আমদানি–রপ্তানি খাত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে চাপে দেশের আমদানি–রপ্তানি খাত

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে সংকটে পড়েছে দেশের আমদানি–রপ্তানি খাত। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে সবজি রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ইউরোপে তৈরি পোশাক রপ্তানির খরচও বেড়েছে। এর ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমেও বিঘ্ন দেখা দিচ্ছে।


জরুরি রপ্তানি কার্যক্রমও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। উড়োজাহাজের মাধ্যমে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে নমুনা আনা–নেওয়া এবং ব্র্যান্ড ক্রেতাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদান–প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানাগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলের অভাবে বিদ্যুৎ না থাকলে কারখানায় জেনারেটর চালু রাখা যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিভিন্ন বন্দরে মধ্যপ্রাচ্যগামী কনটেইনারের ওপর অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করেছে। এতে আমদানি–রপ্তানির ব্যয় আরও বেড়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের বুকিং সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে অনেক নৌপরিবহন সংস্থা। ফলে সামগ্রিকভাবে আমদানি–রপ্তানি খাতে সংকট কাটছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি সত্তর লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের প্রায় বিশ শতাংশ। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি এই পথের ওপর নির্ভরশীল। এই পথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘ সময় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিলে বাংলাদেশের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে পরিবহন ব্যয়, বিমা ব্যয় এবং পণ্য সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়লে অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


এর ফলে কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে ডিজেল সংকটের কারণে জেনারেটর চালাতে না পারায় পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অফডক থেকে বন্দরে পণ্যবাহী গাড়ি পাঠানোর হারও কমে গেছে। এতে লাইটারেজ জাহাজগুলো পণ্য নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।


ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে তা বাংলাদেশের বহিঃখাতের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল দশ মার্কিন ডলার বাড়লে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় সত্তর থেকে আশি মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।


সংস্থাটি আরও মনে করে, সংঘাতের মাত্রা বাড়লে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, ইতিমধ্যে বেশি পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে পরিবহনে বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।


বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প পথে আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে জাহাজ চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে প্রায় দশ দিন অতিরিক্ত সময় লাগছে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া। কারণ জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, গড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হলেও ডিজেলের সংকটে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।