জামালপুরে চৈত্রের শুরুতেই ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত, কৃষকদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি
জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চৈত্র মাসের প্রথম দিনেই ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। কৃষকরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ এই ধরনের আবহাওয়ার ফলে মাঠে কাজ করা প্রাণঘাতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
গত পাঁচ বছরে জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, ঝড় বা বজ্রপাত শুরু হলে আশ্রয় নেওয়ার মতো নিরাপদ স্থান নেই। তাই মাঠের পাশে ছোট পাকা ছাউনি বা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে বিপদকালে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া সম্ভব হবে।
ইসলামপুর উপজেলার পার্থশী এলাকার কৃষক সোলায়মান হোসেন বলেন, “চৈত্র, বৈশাখ ও আষাঢ় মাসে হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হয়। ধানের কাজ থাকায় মাঠে কাজ করা ছাড়া উপায় নেই।”
তারপরও ঝড়-বৃষ্টির ভয় থাকায় কৃষকরা আতঙ্কিত থাকেন। মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া এলাকার কৃষক বাচ্চু শেখ বলেন, ক্ষেতের মাঝে পাকা ছোট ঘর থাকলে ঝড়-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া সম্ভব হবে।
জামালপুর পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ঋতুর অস্থিরতার কারণে বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বন উজাড় বন্ধ করে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পরামর্শ দেন।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে ঝড়-বৃষ্টির সময় তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এছাড়া মাঠে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণের কোনো প্রকল্প নেই, তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।