স্পেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’, ন্যাটো ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরোধের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউরোপ। সাইপ্রাস-এ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে বাজেট ও অন্যান্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলাকালেই স্পেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট, রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের টানাপোড়েন একসঙ্গে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সম্মেলনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ন্যাটোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে পেন্টাগন-এর ফাঁস হওয়া একটি ইমেইলের কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছে যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ন্যাটো-এর চুক্তিতে কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বহিষ্কারের বিধান নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত মতামত প্রয়োজন।
স্পেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন স্পষ্টভাবে বলেন, স্পেন ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য এবং থাকবে। একইভাবে জার্মানির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও স্পেনের সদস্যপদ নিয়ে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না।
অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের মধ্যে এই উত্তেজনা ইতিবাচক নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।