সোমবার , ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সোমবার , ২৭ এপ্রিল ২০২৬
হোমসারা দেশনাফ নদীতে ইয়াবা উদ্ধার অব্যাহত, জড়িত স্থানীয় জেলেরা

নাফ নদীতে ইয়াবা উদ্ধার অব্যাহত, জড়িত স্থানীয় জেলেরা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নাফ নদীতে ইয়াবা উদ্ধার অব্যাহত, জড়িত স্থানীয় জেলেরা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নাফ নদী দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। টেকনাফ উপজেলা ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মধ্যবর্তী এই নদী একদিকে যেমন রোহিঙ্গা সংকটের সাক্ষী, তেমনি মাদক ও মানবপাচারের অন্যতম রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিশেষ করে ইয়াবা পাচারে এই নদীপথ বহু বছর ধরে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর ধারাবাহিক অভিযানে কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। নিয়মিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার ও পাচারকারীদের গ্রেফতার বাড়লেও পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং কৌশল বদলে পাচারকারীরা এখন গভীর সমুদ্রপথ ব্যবহার করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, বেশি অর্থের লোভে স্থানীয় অনেক জেলে এই চক্রে জড়িয়ে পড়ছে। পাচারকারীরা মাছ ধরার ট্রলার ব্যবহার করে নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে মাছ বা অন্যান্য পণ্যের বিনিময়ে মাদক আদান-প্রদান করা হয়। এ চক্রে কিছু রোহিঙ্গার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নদীপথে ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফ মোহনা এলাকায় স্মার্ট পেট্রোলিং, অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের মতে, কঠোর নজরদারির কারণেই পাচারকারীরা এখন নদীপথ ছেড়ে গভীর সমুদ্রে সরে যাচ্ছে।

গত এক বছরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৫০ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি ৫.৫ কেজি আইস জব্দ এবং ৪৭১ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

তবে এই অভিযানে নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাতের অন্ধকারে পাচারের চেষ্টা, সীমিত জনবল এবং আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতি কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে।

এরপরও কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন নদী ও সমুদ্রপথে মাদকপাচার রোধে কোস্ট গার্ড তাদের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সন্দেহজনক ট্রলারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।