ইউএফও নিয়ে গোপন নথি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘ কয়েক দশকের গোপনীয়তার অবসান ঘটিয়ে রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও–সংক্রান্ত ১৬১টি নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নির্দেশে শুক্রবার (৮ মে) এসব নথি প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত নথিতে ১৯৬০ ও ৭০–এর দশকের অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযান–সংক্রান্ত বেশ কিছু আলোচিত তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে চাঁদে যাওয়া নভোচারীদের অদ্ভুত অভিজ্ঞতার বর্ণনাও রয়েছে।
১৯৬৯ সালের অ্যাপোলো ১১ মিশন–এর মহাকাশচারী বাজ অলড্রিন জানিয়েছেন, চাঁদে যাওয়ার পথে তিনি অজানা উৎস থেকে আসা উজ্জ্বল আলো দেখতে পেয়েছিলেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন অ্যাপোলো ১২ মিশন ও অ্যাপোলো ১৭ মিশন–এর নভোচারীরাও। তারা মহাকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ও ভাসমান কণা দেখার কথা জানিয়েছেন।
এছাড়া ১৯৬৫ সালের জেমিনি ৭ মিশন–এর অডিও রেকর্ডিংয়ে নভোচারীদের একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা ‘বোগি’ নিয়ে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে আলোচনা করতে শোনা যায়।
শুধু মহাকাশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকেও ইউএফও দেখার বহু ঘটনা এই নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালে ইরাক, সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ক্যামেরায় ধরা পড়া রহস্যময় ডিম্বাকৃতির বস্তুর ভিডিও। এছাড়া ১৯৫৭ সালে এফবিআইকে দেওয়া সাক্ষ্য এবং ২০২৩ সালে সাধারণ নাগরিকদের দেখা ভাসমান ধাতব বস্তুর বর্ণনাও প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভিনগ্রহের প্রাণ ও ইউএফও নিয়ে নতুন করে জনআগ্রহ বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেস এ বিষয়ে ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শুনানির আয়োজন করে।
পেন্টাগনের এই উদ্যোগকে অনেক আইনপ্রণেতা স্বচ্ছতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও ইরান ইস্যু থেকে জনমত অন্যদিকে সরাতেই এই নথিগুলো এখন প্রকাশ করা হয়েছে।