চুলের যত্নে তেঁতুলের ব্যবহার, জেনে নিন উপকারিতা
চুলের রুক্ষতা ও প্রাণহীনতা কমাতে তেঁতুল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। রান্নাঘরে থাকা এই সাধারণ উপাদানটিতে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড, যা মাথার ত্বকের যত্নে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেঁতুলের উপাদানগুলো স্ক্যাল্পের মৃত কোষ পরিষ্কার করতে, অতিরিক্ত তেল দূর করতে এবং মাথার ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে চুলের গোড়া সুস্থ থাকতে পারে।
বর্তমান সময়ে চুল পড়ার সমস্যা অনেকেরই দেখা যায়। মানসিক চাপ, দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টির ঘাটতি, অতিরিক্ত গরম এবং হার্ড ওয়াটারের কারণে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ কারণে অনেকেই দামি পণ্যের পাশাপাশি ঘরোয়া উপাদানের ব্যবহার করছেন।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাথার ত্বকে ঘাম, তেল ও ময়লা জমে যেতে পারে। তেঁতুলের হালকা অম্লীয় গুণ স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করতে পারে। পরিষ্কার স্ক্যাল্প চুলের বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে তেঁতুল কোনো জাদুকরী চিকিৎসা নয়। শুধু তেঁতুল ব্যবহার করলেই চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ হবে—এমন দাবি সঠিক নয়। চুল পড়ার পেছনে হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, ভিটামিনের ঘাটতি, খুশকি বা বংশগত কারণও থাকতে পারে।
চুলের যত্নে তেঁতুলের একটি ঘরোয়া ব্যবহার হলো—এক টুকরো তেঁতুল প্রায় ২০ মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে এর পাল্প বের করে নিতে হবে। এরপর এর সঙ্গে টকদই ও এক চামচ মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করা যায়। মিশ্রণটি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
এ ছাড়া নারিকেল তেলের সঙ্গে সামান্য তেঁতুলের পাল্প মিশিয়ে ব্যবহার করলেও অনেকে উপকার পান। এটি মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
খুশকির সমস্যায় কেউ কেউ তেঁতুল ও নিমপাতার পেস্ট ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ তেঁতুলের অম্লীয় প্রকৃতির কারণে চুল শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।