বৃহস্পতিবার , ০২ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০২ জুলাই ২০২৬
হোমরাজনীতিজামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়, ক্ষমা ও বিচারের দাবি বিভিন্ন মহলের

জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়, ক্ষমা ও বিচারের দাবি বিভিন্ন মহলের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়, ক্ষমা ও বিচারের দাবি বিভিন্ন মহলের

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির অতীতের অবস্থান, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং সম্ভাব্য বিচার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষক ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।


জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। তার মতে, অতীতের সেই অবস্থান স্বীকার করলে দলটির রাজনৈতিক পথ আরও সহজ হতে পারত।


এর জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, তাদের দল কোনো অপরাধ করেনি, তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে অতীতের রাজনৈতিক বিভাজনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।


এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বিষয়টি কেবল ক্ষমা প্রার্থনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দলটির স্পষ্ট ও নিঃশর্ত অবস্থান গ্রহণ করা প্রয়োজন। তার মতে, যদি কোনো ঐতিহাসিক দায় থাকে, তবে তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া উচিত।


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সও বলেন, শুধু ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাপ্তি হতে পারে না। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।


মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সংসদীয় আলোচনার পর বিষয়টি আবারও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।