গাজা ইস্যুতে মুসলিম ভোটারদের আস্থা হারিয়ে চাপে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নেওয়া অবস্থানের কারণে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন হারিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলের নীতিগত অবস্থান এবং নেতৃত্বের বিতর্কিত মন্তব্যের ফলে ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা কিয়ার স্টারমারের একটি মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ মুসলিম সম্প্রদায়সহ লেবার পার্টির অনেক সমর্থকের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে দলটির ১৫০ জনেরও বেশি মুসলিম কাউন্সিলর গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর দাবি তুললেও সে সময় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
যদিও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি সরকার গঠন করে, গাজা ইস্যুর প্রভাব মুসলিমপ্রধান বেশ কয়েকটি আসনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ডিউসবারি অ্যান্ড ব্যাটলি আসনসহ কয়েকটি এলাকায় দলটি পরাজয়ের মুখে পড়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। মুসলিম ভোটারদের একটি অংশ লেবার পার্টি ছেড়ে স্বতন্ত্র, গ্রিন পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। সাবেক লেবার কাউন্সিলর ইউসরা হুসাইনও দাবি করেছেন, দলের নীতিগত পরিবর্তনের কারণেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেরেমি করবিনের সময়কার ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টির নীতিতে পরিবর্তন আসে, যা অনেক ভোটারের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। পরবর্তীতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলেও ততদিনে দলটির প্রতি অনেক ভোটারের আস্থা কমে যায়।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানে অসন্তুষ্ট বহু সাবেক সমর্থক এখন গ্রিন পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, এসএনপি কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি ঝুঁকছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে দেশীয় ও পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হতে পারে।