২৬ দিনের বিক্ষোভে অচল পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মির, রাজপথে ‘আজাদী’র দাবিতে উত্তাল জনতা
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরে টানা ২৬ দিনের অসহযোগ আন্দোলনে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ৩৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি মৃতের সংখ্যা ৩০-এরও বেশি। এ ছাড়া শতাধিক মানুষ আহত এবং এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খাদ্য সংকট ও বিদ্যুতের মূল্য কমানোর দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। সংগঠনটি ২০২৫ সালের ৫ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
আন্দোলনে নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে স্বাধীনতা ("আজাদী") এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কাশ্মিরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্থানীয়দের উচ্চমূল্যে কিনতে হয়, খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবং সরকারি সুবিধা বণ্টনেও বৈষম্য রয়েছে। তারা ভিআইপি সুবিধা বাতিল, সরকারি ব্যয় কমানো এবং সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন।
আসন্ন ২৭ জুলাইয়ের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের মতে, কাশ্মিরের বাইরে অবস্থানরত শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার অঞ্চলের রাজনীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব বজায় রাখছে।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ সেবা সীমিত করা, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর ফলে ব্যাংকিং কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত কাশ্মিরিরাও পাকিস্তানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।