রবিবার , ০৫ জুলাই ২০২৬
রবিবার , ০৫ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বশান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানি নেতাদের হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ, যা বলছে নিউইয়র্ক টাইমস

শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানি নেতাদের হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ, যা বলছে নিউইয়র্ক টাইমস

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানি নেতাদের হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ, যা বলছে নিউইয়র্ক টাইমস

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার সময় ইরানের শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল— এমন দাবি উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম *দ্য নিউইয়র্ক টাইমস*-এর এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এমন হামলা যুদ্ধবির্তার প্রচেষ্টা ভেস্তে দিতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রও উদ্বিগ্ন ছিল।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর প্রায় ৪০ দিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে ইরানে ফেরার পথে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।


মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি নেতাদের হত্যার যেকোনো প্রচেষ্টা চলমান আলোচনার অবসান ঘটিয়ে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারত। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে সতর্ক করার উদ্যোগ নেয়।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসলামাবাদ সফরের সময় গালিবাফের নিরাপত্তায় পাকিস্তান যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। সফর শেষে ফেরার পথে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার বহনকারী বিমানের ক্রুরা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা জানতে পারেন। এরপর বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে মাশহাদে অবতরণ করে। সেখান থেকে গালিবাফ ও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় আট ঘণ্টা সড়কপথে তেহরানে পৌঁছান।


গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইরানি আইনপ্রণেতা মোহসেন জাঙ্গানেহ দাবি করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন গালিবাফ, আরাগচি এবং প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালালেও ইসরায়েল সম্ভাব্য সমঝোতাকে যথেষ্ট মনে করেনি। তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানে শাসন পরিবর্তন, তেহরানের আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।