রবিবার , ০৫ জুলাই ২০২৬
রবিবার , ০৫ জুলাই ২০২৬
হোমসারা দেশদাম কমলেও মাধবপুরে এলপিজি গ্যাস মিলছে আগের দামে, ক্ষোভ ভোক্তাদের

দাম কমলেও মাধবপুরে এলপিজি গ্যাস মিলছে আগের দামে, ক্ষোভ ভোক্তাদের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
দাম কমলেও মাধবপুরে এলপিজি গ্যাস মিলছে আগের দামে, ক্ষোভ ভোক্তাদের

সরকার ১২ কেজি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের দাম কমালেও হবিগঞ্জের মাধবপুরে সেই সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। সরকারি মূল্য কার্যকরের কয়েক দিন পরও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগের দামেই গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।


সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, গত ২ জুলাই থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা। তবে মাধবপুরের অধিকাংশ এলাকায় এখনো ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।


উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকানে এলপিজি গ্যাস বিক্রি হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই রান্নার কাজে এই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সরকারি মূল্য কমার পরও আগের দাম পরিশোধ করতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাবে ডিলার ও সরবরাহকারী পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারি মূল্য কমানোর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।


ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা আমির আলী বলেন, সরকারি মূল্য জানার পর কয়েকটি দোকানে গেলেও কোথাও ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাননি। মনতলা এলাকার ব্যবসায়ী সায়েত মিয়াও অভিযোগ করেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না।


অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা এখনো ডিলারদের কাছ থেকে আগের দামে গ্যাস কিনছেন। তাই বাধ্য হয়ে আগের মূল্যেই বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, নতুন দামে সরবরাহ পেলে তারাও কম দামে বিক্রি করবেন।


তবে জগদীশপুর এলাকার ডিলার জজ মিয়া দাবি করেন, তিনি সরকার নির্ধারিত মূল্যেই গ্যাস বিক্রি করছেন। খুচরা পর্যায়ে কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে তার দায় ডিলারের নয়।


এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে এলপিজি বিক্রির সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে।


স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত বাজার অভিযান এবং ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে সরকারি মূল্য কার্যকর হবে এবং সাধারণ ভোক্তারা এর প্রকৃত সুফল পাবেন।