সোমবার , ০৬ জুলাই ২০২৬
সোমবার , ০৬ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বসুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডব: ২৯০ কিমি বেগের ঝড়ে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা বিপর্যস্ত

সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডব: ২৯০ কিমি বেগের ঝড়ে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা বিপর্যস্ত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডব: ২৯০ কিমি বেগের ঝড়ে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা বিপর্যস্ত

ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের প্রবল বাতাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ভয়াবহ এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টাইফুনটির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।


স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। যদিও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ঝড়টি নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের জনবসতিপূর্ণ রোটা দ্বীপে সরাসরি আঘাত হানে। দ্বীপটি গুয়াম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। রোটা প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে।


রোটার মেয়র কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, প্রবল বাতাস ও আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।


সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুন নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের ঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে।


ঝড় আঘাত হানার আগেই অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাসকারী গুয়ামে পাঁচটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষের থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) ‘বাভি’কে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসবিশিষ্ট টাইফুনকে সুপার টাইফুন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ধ্বংসক্ষমতা ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য।


এনডব্লিউএস জানিয়েছে, সোমবার দুপুরের আগে টাইফুনটির শক্তি কমার সম্ভাবনা নেই। এরপর ধীরে ধীরে এটি দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হতে পারে। ততক্ষণ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।