খামেনির জানাজায় প্রতিশোধের স্লোগান, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ
নিহত সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের আহ্বানও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জনতার একটি অংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
অনুষ্ঠানস্থলে টানানো পোস্টার, গ্রাফিতি এবং জনতার স্লোগানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির তীব্র সমালোচনা করা হয়। উপস্থিত কিছু ব্যক্তি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কয়েক মাস বিলম্বের পর ইরান খামেনি এবং তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের জন্য এক সপ্তাহব্যাপী শোক ও দাফন কর্মসূচির আয়োজন করে। তারা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাতের শুরুর দিকে নিহত হন।
জানাজার নামাজে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। অনেকেই জাতীয় পতাকা ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা বহন করেন। অনুষ্ঠানে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’—এমন স্লোগানও শোনা যায়।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে কবি মোহাম্মদ রসৌলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানালে উপস্থিত জনতার একাংশ তা সমর্থন করে। এছাড়া কয়েকজন অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমের কাছে প্রতিশোধের দাবি তুলে বক্তব্য দেন।
আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, একজন নেতাকে হত্যা করা গেলেও তার আদর্শকে ধ্বংস করা যায় না। তার দাবি, খামেনির মৃত্যু অনুসারীদের আদর্শিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর বলেন, জানাজায় মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ দুটি বার্তা বহন করছে—দেশের বিরুদ্ধে হুমকির মোকাবিলায় প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা এবং নিহত নেতার হত্যার বিচার দাবি করা।
নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি উপস্থিত ছিলেন। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
৯৭ বছর বয়সী শিয়া ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। এরপর খামেনির মরদেহ বিভিন্ন শহরে নেওয়ার কর্মসূচি শুরু হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে খামেনির জানাজাকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।