দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর, বৈষম্যহীন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামীকাল (১৫ জুলাই) **বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬** উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে এবং বাংলাদেশেও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তরুণদের উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের দর্শনকে বর্তমান সরকার আরও যুগোপযোগীভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের দক্ষতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও পেশাগত যোগ্যতা বৃদ্ধি করা গেলে শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রযুক্তি যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তেমনি নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিচ্ছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সরকার দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শিল্পমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে কাজ করছে।
বিবৃতিতে তিনি জানান, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অভিন্ন সনদায়ন ব্যবস্থা চালু, দেশি-বিদেশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিশ্ব দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি ও শিল্পখাতের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, **বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬** উপলক্ষে দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃদক্ষায়ন (Reskilling) এবং দক্ষতার নবায়ন (Upskilling) বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আরও দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।