বুধবার , ২২ জুলাই ২০২৬
বুধবার , ২২ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বঅনশন ভাঙতে তিন শর্ত দিলেন সোনম ওয়াংচুক

অনশন ভাঙতে তিন শর্ত দিলেন সোনম ওয়াংচুক

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
অনশন ভাঙতে তিন শর্ত দিলেন সোনম ওয়াংচুক

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ তিনটি শর্ত পূরণ করা হলে অনশন প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। টানা ২০ দিনের বেশি সময় ধরে অনশনরত ওয়াংচুক দিল্লির সাফদারজং হাসপাতাল থেকে হাতে লেখা এক চিঠির মাধ্যমে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।


চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং তার চলাফেরা, মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে।


ওয়াংচুকের প্রথম শর্ত হলো, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক নেতাদের সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উত্থাপনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। তৃতীয় শর্তে তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে যদি তিনি সংসদ অভিমুখে নির্ধারিত পদযাত্রায় অংশ নিতে না পারেন, তাহলে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালে এসে আগের দুটি শর্ত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিতে হবে।


সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা সংস্কার ও লাদাখ–সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছেন। গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। একই দিন থেকে তিনি অনশন শুরু করেন।


গত ১৮ জুলাই, অনশনের ২১তম দিনে দিল্লি পুলিশ তাকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে সাফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থাকে সংকটাপন্ন উল্লেখ করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরে দিল্লি হাইকোর্ট তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়।


এদিকে, ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন। তবে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন কোনো নির্দেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে সরকার তাকে সাফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পারে।


বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণা বলেন, চিকিৎসকেরা নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার সম্মতিতেই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। তাই জোরপূর্বক চিকিৎসা বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।


ওয়াংচুকের আইনজীবী বিবেক টাংখা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে দ্বৈত বেঞ্চে আপিল করে জরুরি শুনানির আবেদন করা হতে পারে।