বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে রূপ দিতে কার্যকর বাস্তবায়ন, বাস্তবমুখী সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি।
সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘বিমসটেকের তিন দশক: যৌথ সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার অগ্রগতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক একীভূতকরণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্লু-ইকোনমির প্রসার এবং জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার সফলতা শুধু ঘোষণার ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। তাই বিমসটেকের কাঠামো আরও শক্তিশালী করে সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন লক্ষ্যকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দিতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, বিদ্যুৎ গ্রিড আন্তঃসংযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সাইবার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, পর্যটন, ভিসা সুবিধা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিমসটেকের সহযোগিতা বিস্তৃত হচ্ছে।
এর আগে বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদুজ্জামান এবং সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিপস) সভাপতি মেজর জেনারেল এ এন এম মুনিরুজ্জামান (অব.)।
আলোচনায় বিমসটেকের তিন দশকের অগ্রযাত্রা পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।