ককরোচ আন্দোলনের তীব্রতায় মোদি সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে: বিবিসি
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন তীব্র হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, রাজধানী দিল্লিতে হাজারো আন্দোলনকারীর লাগাতার বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যুব নেতৃত্বাধীন এ আন্দোলন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরও বেগ পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।
সোমবার আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে অন্তত ৬০ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া যন্তর মন্তরে আন্দোলনের মূল মঞ্চ ও অস্থায়ী তাঁবু সরিয়ে দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। একই দিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটক করার ভিডিও প্রকাশ করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।
সহিংসতার পর দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রবীণ রাজনীতিক শারদ পাওয়ার আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য সরকারের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের সুযোগ না দেওয়ায় বিরোধী দলকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ করতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আলোচনার অনুমতি চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে দেখা করা হলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া আলোচনা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। তার দাবি, এ থেকেই বোঝা যায় সরকার এ বিষয়ে সংসদীয় বিতর্কে আগ্রহী নয়।