রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
হোমজাতীয়আপিলে স্বস্তি, পুনরায় জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন ৩৪ জন

আপিলে স্বস্তি, পুনরায় জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন ৩৪ জন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আপিলে স্বস্তি, পুনরায় জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন ৩৪ জন

প্রতারণার অভিযোগে গেজেট থেকে বাদ পড়া জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে আপিল করা ৪৬ জনের আবেদন পুনঃযাচাই শেষে ৩৪ জনকে পুনরায় জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কমিটি।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকারি তদন্তে ভুয়া তথ্য ও জাল নথির প্রমাণ পাওয়ায় এর আগে ১৩ জন শহিদসহ মোট ২২১ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছিল। পরে গেজেট বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৬ জন আপিল করেন। পুনঃযাচাই শেষে ৩৪ জন আহত ব্যক্তিকে প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পুনর্বহালের সুপারিশ করা হয়েছে।


অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আনোয়ারুল নাসের জানান, আপিলকারীদের মধ্যে ১২ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলেও ৩৪ জন আন্দোলনে আহত হওয়ার এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় পর্যালোচনা কমিটি এসব তথ্য যাচাই করে তাদের পুনরায় গেজেটভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। সুপারিশটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে, স্বীকৃতি প্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে আরও ১২৮ জনের মাসিক ভাতা, এককালীন অনুদানসহ সব ধরনের সরকারি সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০৫ জনের ক্ষেত্রে আন্দোলনে অংশগ্রহণ বা আহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ২৩ জনের নাম একাধিক গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল।


নতুন আবেদন যাচাইয়েও বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রায় ২০০টি আবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০০টি আবেদনে তথ্যগত অসঙ্গতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহিদের পরিচয়ে আহত হিসেবে আবেদন এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের ঘাটতি পাওয়া গেছে। এসব আবেদন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।


মো. আনোয়ারুল নাসের বলেন, সরকারের লক্ষ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের অধিকার নিশ্চিত করা। যাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গেজেট বাতিল ও সরকারি সুবিধা স্থগিতের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। অন্যদিকে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ মিলেছে, তাদের ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ বা সুবিধা গ্রহণকারীদের কাছ থেকে সেই অর্থ পুনরুদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।


বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় কল্যাণমূলক কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে কঠোর যাচাই-বাছাই অপরিহার্য। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রকৃত শহিদ পরিবার ও আহতদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুলবশত বাদ পড়া প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদেরও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, ৩৪ জনকে পুনঃগেজেটের সুপারিশ যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সংশোধনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৮৪৩ জন শহিদ এবং ১৪ হাজার ৩৭০ জন আহত জুলাইযোদ্ধার গেজেট কার্যকর রয়েছে। তাদের কল্যাণে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৭৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শহিদ পরিবারের জন্য সঞ্চয়পত্র, আহতদের এককালীন অনুদান, মাসিক ভাতা এবং বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়।


এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট থেকে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে এবং শিগগিরই বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।