বুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬
বুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শিথিল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শিথিল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শিথিল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই সপ্তাহের সংঘাত আপাতত থেমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। সংঘাত কমে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশায় একদিনেই প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে তেলের দাম।


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এক পর্যায়ে এর দাম ৯০ ডলারের নিচেও নেমেছিল।


একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে।


টানা তিন সপ্তাহ মূল্যবৃদ্ধির পর দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।


সংঘাতের প্রভাব লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ায় সৌদি আরব থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল রপ্তানিতেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।


জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত সামরিক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমে সমঝোতার পথে অগ্রগতি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য ইতিবাচক হবে।


তবে হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ এ পথ ব্যবহার করেছে।


এদিকে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার পর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে গেছে। যদিও একটি চীনা সুপারট্যাংকার নিরাপদে ওই পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।


এমএসটি মারকুই-এর বিশ্লেষক সাউল কাভোনিকের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অনেক শিপিং কোম্পানি ঝুঁকি এড়িয়ে চলবে এবং খালি জাহাজ ওই রুটে পাঠাতে সতর্ক থাকবে।