রবিবার , ০২ আগস্ট ২০২৬
রবিবার , ০২ আগস্ট ২০২৬
হোমআইন ও আদালতমেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম হত্যা ও পরিবারের গুমের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু

মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম হত্যা ও পরিবারের গুমের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম হত্যা ও পরিবারের গুমের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা এক অভিযোগে বলা হয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য জানার কারণে মেজর (অব.) Zahidul Islam-কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং পরে তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে গুম করে নির্যাতন করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি ‘জঙ্গি অভিযান’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।


মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার ও দুই সন্তানকে চোখ বেঁধে দীর্ঘ সময় গোপন স্থানে আটকে রাখা হয় এবং তাকে স্বামীর বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়।


এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) AKM Shahidul Hoque-কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।


অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগে মেজর জাহিদের সেখানে পদায়নের কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি। পরে ওই ঘটনার বিষয়ে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য জানার কারণে তিনি নজরদারির মধ্যে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে রূপনগরের বাসা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর হত্যা করা হয়। একই সময়ে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।


গত বছরের ১০ আগস্ট জেবুন্নাহার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক ডিবি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সাবেক সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জেবুন্নাহারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।


জেবুন্নাহার দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তার পরিবারকে দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। অন্যদিকে, তার ভাই অভিযোগ করেন, নিহতের মরদেহ দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি; পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।


উল্লেখ্য, এসব তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। মামলাটির বিচারাধীন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।