সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআইন ও আদালতরংপুরের চার খুন: ডিএনএ পরীক্ষায় ঢাকায় দুই আসামি

রংপুরের চার খুন: ডিএনএ পরীক্ষায় ঢাকায় দুই আসামি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
রংপুরের চার খুন: ডিএনএ পরীক্ষায় ঢাকায় দুই আসামি

রংপুরের চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একাধিক আলামতে পুরুষের ডিএনএ’র অস্তিত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব আলামতের সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখতে কারাবন্দি দুই প্রধান আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে তাদের ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে রওনা দেয় রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।


রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতের নির্দেশে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাদের আবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হবে।


তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ৩৫টি আলামতের মধ্যে খেজুর, শসা, ইয়াবা সেবনের ফয়েল এবং ফল কাটার চাকুসহ কয়েকটি স্পর্শকাতর আলামতে পুরুষের উপস্থিতির নমুনা পাওয়া গেছে। এসব আলামতের সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে।


তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনায় তাদের বাইরে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্তে সহায়তা করবে এই পরীক্ষা।


সিআইডি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ও তার পরিবারের তিন সদস্যের ডিএনএ নমুনা আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন আসামিদের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।


উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট মধ্যরাতের পর রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং কনিষ্ঠ ছেলে ও জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী।


এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে দায় স্বীকার করেন বলে মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে যে বন্ধুর বাসায় ইয়াবা সেবন করা হয়েছিল, সেই বন্ধু সীমান্ত এবং হত্যাকাণ্ডের পর আশ্রয় নেওয়া শ্মশানের পাহারাদার বিদ্যুৎ দাসও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।