বুধবার , ০৫ আগস্ট ২০২৬
বুধবার , ০৫ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারে এগোচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারে এগোচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

favicon
মাহামুদুল হাসান
সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারে এগোচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করতে চায় সরকার। তিনি জানান, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নতুন সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। এ জন্য দিন-তারিখ ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা নির্ধারণের কাজ চলছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঁচজন সদস্যের নাম দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তারা শিগগিরই নাম পাঠাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।


তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে অংশ নিলে যেমন স্বাগত জানানো হবে, তেমনি বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে দেওয়া মতামত ও সুপারিশও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এসব পরামর্শের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।


সংবিধান সংস্কারের পথে কোনো বড় বাধা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছে। তার ভাষ্য, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জাতির আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংবিধান সংস্কারই প্রথম পদক্ষেপ।


তিনি জানান, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করা হবে। ফলে পুরো আলোচনা প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য এখনই নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো, ভিন্নমতের নোট (নোট অব ডিসেন্ট), সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।