বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি পুনর্গঠন
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি (এনসিএএসসি) পুনর্গঠন করেছে সরকার।
সোমবার (৩ আগস্ট) বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব একেএম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন কমিটিতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে সভাপতি এবং প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাতকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা)।
জানা গেছে, নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে।
### কমিটির দায়িত্ব
প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
* সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান।
* গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারে সুপারিশ করা।
* জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা।
* নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুপারিশ করা।
* বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অবকাঠামো ও আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সম্প্রসারণে পরামর্শ দেওয়া।
* নতুন বিমানবন্দর নির্মাণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
* আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা।
এ ছাড়া, প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অ্যাডহক সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এবং নতুন নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ে উপকমিটি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি বছরে অন্তত দুইবার সভা আহ্বান করবেন।