বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে অচলাবস্থা, নিঃশব্দে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে অচলাবস্থা, নিঃশব্দে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে অচলাবস্থা, নিঃশব্দে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই স্পষ্ট বিজয় অর্জন করতে পারেনি। বরং সংঘাত এমন এক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে, যা উভয় পক্ষের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।


রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। তার মতে, এই সেনা বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।


স্টিফেনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে সেনাসদস্যের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এটি স্পষ্টতই নতুন সামরিক প্রস্তুতির একটি লক্ষণ। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই সেনা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।


তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে সরাসরি আগ্রাসন চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের বিজয় অর্জনের সম্ভাবনা নেই। ফলে দুই দেশের সংঘাত এখন অনেকটা অচলাবস্থার মধ্যে আটকে আছে।


এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছে ইরাকের একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল।


ইরাকি নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক হামলা এবং দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করতেই ইরাকি প্রতিনিধিদলের এই সফর।


ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবে একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, অন্য কোনো দেশে হামলা চালাতে বাগদাদের ভূখণ্ড কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।


ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কার্যালয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল আমির আল-শাম্মারির নেতৃত্বে সৌদি আরব সফর করছে প্রতিনিধিদলটি। এতে ইরাকের গোয়েন্দা ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও রয়েছেন।


সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক হামলা, সম্ভাব্য ড্রোন হামলার হুমকি এবং দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।