ওজন কমানোর ওষুধে বাড়তে পারে টেস্টোস্টেরন, বলছে গবেষণা
স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ পুরুষের টেস্টোস্টেরন মাত্রা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ওষুধকে সরাসরি ‘টেস্টোস্টেরন বুস্টার’ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
সেমাগ্লুটাইড ও লিরাগ্লুটাইডের মতো জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট ওজন কমানো, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাকীয় জটিলতার ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত হয়। স্থূলতা, ইনসুলিন প্রতিরোধ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধের হরমোনের ওপর প্রভাব নিয়ে এখন গবেষণা চলছে।
আমৃতা হাসপাতাল, ফরিদাবাদের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক নিশান্ত রাইজাদা বলেন, জিএলপি-১ ওষুধকে টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর ওষুধ বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। বরং বিপাকীয় সমস্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এসব ওষুধ শরীরে স্বাভাবিক টেস্টোস্টেরন উৎপাদনের ওপর থাকা কিছু বাধা কমাতে পারে।
### স্থূলতার সঙ্গে টেস্টোস্টেরন কমার সম্পর্ক
পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার পেছনে শুধু অণ্ডকোষের সমস্যা দায়ী নয়। অতিরিক্ত শরীরের চর্বি, বিশেষ করে পেট ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের আশপাশের চর্বি, মস্তিষ্ক ও প্রজনন অঙ্গের মধ্যে হরমোনের সংকেত আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ হাইপোথ্যালামিক-পিটুইটারি-গোনাডাল (এইচপিজি) অক্ষের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া ইনসুলিন প্রতিরোধ, দীর্ঘস্থায়ী নিম্নমাত্রার প্রদাহ, লেপটিন হরমোনের সংকেতের পরিবর্তন এবং শরীরের চর্বিতে টেস্টোস্টেরন থেকে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তর বেড়ে যাওয়াও হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
### গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
জিএলপি-১ ওষুধ এবং পুরুষের হরমোনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এখনো চলমান। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া কিছু ফলাফল আশাব্যঞ্জক।
২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে সাতটি গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬৮০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট ব্যবহারের সঙ্গে মোট টেস্টোস্টেরন বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়। একই সঙ্গে শরীরের ওজন, বিএমআই, কোমরের পরিধি এবং এইচবিএ১সি-এর মাত্রাও কমেছে।
২০২৬ সালের আরেকটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় ১০টি গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬৩৯ জন পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে জিএলপি-১ থেরাপি চলাকালে সাধারণত মোট টেস্টোস্টেরন বাড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা কার্যকরী হাইপোগোনাডিজমে আক্রান্ত পুরুষদের ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি ছিল।
তবে ফ্রি টেস্টোস্টেরনের ক্ষেত্রে গবেষণার ফলাফল ছিল অসঙ্গত। কারণ মোট টেস্টোস্টেরন ও ফ্রি টেস্টোস্টেরন এক নয়। রক্তে থাকা টেস্টোস্টেরনের বড় অংশ বিভিন্ন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, আর অল্প একটি অংশ মুক্ত অবস্থায় থাকে, যা শরীরের টিস্যু সরাসরি ব্যবহার করতে পারে।